Ad Code

Responsive Advertisement

একজন দোকানদার ও তোতা পাখি


কোন একজন দোকানদারের একটি তোতা পাখি ছিল। তোতাটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তার কন্ঠস্বর ছিল মধুর ও মনমুগ্ধকার। দোকানে অনেক দিন থাকার ফলে ক্রেতাদের সকলকে বেশ ভাল করে চিনে ফেলেছে পাখিটি। ক্রেতা দেখলেই ছালামুন আলাইকুম বলে ভালমন্দ জিজ্ঞেস করে, আরও কতো কি! দোকানদার কোন প্রয়োজনে বাড়ি গেলে দরজার সামনে তোতার খাঁচাটি ঝুলিয়ে রেখে যেতে। দোকানদারের অনুপস্থিতিতে কোন ক্রেতা এলে তোতা তাকে ছালাম দিয়ে বলতো, ‍‍“কিছুক্ষণ বস, দোকানদার এখনই ফিরবে”।
যারা তোতাকে চিনতো তারা তোতার কথা মতোই অপেক্ষা করতো। কিন্তু অচেনা ক্রেতারা তোতার কথাবার্তা হাবভাব দেখে মনে করতো এই তোতা যেমন তেমন তোতা নয়-মানুষের মতো পাহারাদার। তাই হয়তো তারা দোকানদারের অপেক্ষা করতো নয়তোবা চলে যেতো। পরে দোকানদার ফিরে এলেই যে যার বস্তু ক্রয় করতো ।
একজন দোকানদার ও তোতা পাখির গল্প
একদিন দোকানদার তোতাকে দোকানের পাহাড়ায় রেখে বাড়িতে গেল। এদিকে একটি বিড়াল ইঁদুর দেখে ঝাঁপ দিল। তোতা এর আগে কখনো বিড়ালের এরকম হামলা দেখেনি। তাই জানের ভয়ে লোহার খাঁচার দরজা পথে পাখা ঝাপটা দিয়ে বেরিয়ে এলো এবং ঘরের নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তার পায়ের শিকল ছুটে বাদাম তেলের বোতলে লাগল। বোতল কাৎ হয়ে পড়ে গেলে তেলও মাটিতে পড়ে যায়। বিড়াল তোতার পাখা ঝাপটা ও উড়া উড়ি দেখে ভয় পেয়ে দোকান ছেড়ে পালালো। মেঝের ফরাশ/ বিছানা সব তেলে চটচটে হয়ে গেল ।
এ দেখে তোতা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দোকানের এক কোণে জড়সড় হয়ে বসে রইল। যথাসময়ে দোকানদার দোকানে এসে গদিতে বসতেই দোকানের অবস্থা দেখে হতভম্ব হল এবং জড়সড় অবস্থায় তোতাকে দোকানের এককোণে দেখে মনে করল, তোতারই এই কাজ। সে হাতের ছড়ি দ্বারা তোতার মাথায় আঘাত করল ফলে মাথার পরগুলো ঝরে পরে মাথা নেড়া হয়ে গেল। এ ঘটনার পর তোতার মধ্যে বিরাট পরিবর্তন দেখা গেল। তোতা এখন মিষ্টি আলাপ করে না, মধুর স্বরে কথাও বলে না। তোতা এখন নীরব ও নির্বাক। কেবলই তাকিয়ে থাকে। বলাবাহুল্য, এই তোতার মিষ্টি বুলির কারণেই  ব্যবসায়ীর দোকানে ক্রেতাদের ভীড় জমত। তোতার এই অবস্থা দেখে দোকানদার অত্যন্ত মর্মাহত হল, কত পীর-বুযুর্গের দোলা লইল, নানা বর্ণের বিস্ময়কর বস্তু, ভাল ভাল খাবার তোতার সম্মুখে উপস্থিত করল, যাতে তোতা মুখ খোলে, কথা বলে। কিন্তু না, কিছুতেই কিছু হলো না, দোকানদার শুধু আফসোস করতে থাকল।
একদিন মাথা মুড়ান এক দরবেশ ব্যবসায়ীর দোকানে কোন বস্তু ক্রয় করতে আসল। তার নেড়া মাথা দেখে তোতা হঠাৎ মধুর কন্ঠে বলে উঠল, কি হে ভাই! তুমিও কি কারও বাদাম তেলের বোতল ভেঙ্গে তৈল ফেলে দিয়েছিলে? নিজের উপর কেয়াস সুলভ তোতার উক্তি শুনে উপস্থিত জনতা হেসে উঠল। কেননা, সে দরবেশকে নিজের সাথে তুলনা করেছে। ছোট হয়ে নিজেকে বড়দের সাথে তুলনা করলে সে হাসির পাত্রই হয় বটে। সুতরাং ছোট হয়ে নিজেকে বড়দের সাথে তুলনা করতে নেই।
শিক্ষনীয় বিষয়ঃ
১. আল্লাহওয়ালদের কাজকে নিজের কাজের উপর ধারণা ভুল। যেমন- ঐ তোতা পাখি দরবেশকে নিজের উপর ধারণা করে সকলের হাসির পাত্র হয়েছিল।
২. অসৎ হতভাগাদের অন্তর্দৃষ্টি নছীব হয় না, কাজেই ভাল মন্দ তাদের নজরে এক রকম মনে হয়, এই কারণেই আম্বিয়ায়ে কেরামদেরকে তারা নিজেদের সমকক্ষতা দাবী করত। আম্বিয়ায়ে কেরামদেরকে নিজেদের মত মনে করে বলত, আমরাও মানুষ নবীগণও মানুষ, আমরাও খাই, ঘুমাই, নবীগণও খায়, ঘুমায়। পবিত্র কুরআন পাকে আছে, “ক্বলু মা আনতুম ইল্লা বাশারুম মিছলুনা”, অর্থাৎ কাফেরদের দল বলত, তোমরাও আমাদের মত মানুষ। অথচ তাদের অন্ধ দিলে একথা আসল না যে, উভয়ের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। (সুরা ইয়াসীন, আয়াত নম্বর -১৫)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Close Menu