ইসলামের ইতিহাসে হিজরতের পূর্বে মদিনার আনসারদের সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যে ঐতিহাসিক চুক্তি বা অঙ্গীকার স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা-ই আকাবার শপথ বা Pledge of Aqabah নামে পরিচিত। ইসলামের প্রচার, প্রসার এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে এই শপথের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মক্কার কুরাইশদের তীব্র নির্যাতন ও বাধার মুখে এই শপথ মুসলমানদের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
আকাবার শপথের প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক পটভূমি
নবুয়তের দশম
বছরে
রাসুলুল্লাহ (সা.)
তাঁর
প্রিয়তম স্ত্রী
খাদিজা
(রা.)
এবং
আপন
চাচা
আবু
তালিবকে হারান।
ইতিহাসের পাতায়
এই
বছরটিকে আমুল হুযন বা দুঃখের বছর
বলা
হয়।
এই
কঠিন
সময়ে
মক্কার
কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা
বহুগুণ
বেড়ে
যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)
ইসলামের দাওয়াত নিয়ে
তায়েফে গেলেও
সেখানে
চরম
নির্মমতার শিকার
হন।
মক্কার
বাইরে
ইসলামের জন্য
একটি
নিরাপদ
আশ্রয়ের সন্ধান
তখন
অত্যন্ত জরুরি
হয়ে
পড়েছিল। ঠিক
এই
পরিস্থিতিতে মদিনার
মানুষের সাথে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে।
ইয়াসরিবের সামাজিক অবস্থা
মদিনার প্রধান দুটি গোত্র আউস ও খাজরাজ দীর্ঘদিন ধরে ‘বুয়াসের যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তারা এমন একজন দূরদর্শী ও ন্যায়পরায়ণ নেতার সন্ধান করছিল, যিনি তাদের এই দীর্ঘদিনের কলহের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন।
প্রথম আলোর সন্ধান (১১তম নবুয়ত বর্ষ)
হজের
মৌসুমে
মক্কার
অদূরে
আকাবা
নামক
স্থানে
রাসুলুল্লাহ (সা.)
ইয়াসরিবের খাজরাজ
গোত্রের ৬
জন
লোকের
সাথে
সাক্ষাৎ করেন।
তিনি
তাদের
সামনে
পবিত্র
কুরআনের বাণী
তুলে
ধরেন
এবং
ইসলামের দাওয়াত দেন।
মদিনার
ইহুদিদের কাছ
থেকে
তারা
আগেই
একজন
শেষ
নবীর
আগমন
বার্তা
শুনেছিল। ফলে
তারা
অবিলম্বে ইসলাম
গ্রহণ
করেন
এবং
মদিনায়
ফিরে
গিয়ে
ইসলামের আলো
ছড়াতে
শুরু
করেন।
প্রথম আকাবার শপথ ৬২১ খ্রিষ্টাব্দ
প্রথম আলোর সন্ধানের পরের
বছর নবুয়তের ১২তম বর্ষ, ৬২১ খ্রিস্টাব্দে হজের
মৌসুমে
মদিনা
থেকে
১২
জন
ব্যক্তি মক্কায় আসেন।
এদের
মধ্যে
৫
জন
ছিলেন
পূর্বের বছরের
এবং
৭
জন
ছিলেন
নতুন।
মক্কার
গিরিপথ
আকাবায় তারা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে এক
ঐতিহাসিক শপথ
গ্রহণ
করেন।
এটি
ইতিহাসে প্রথম আকাবার শপথ নামে
পরিচিত।
প্রথম শপথের শর্তাবলী ও মূল বিষয়বস্তু
এই
শপথটি
মূলত
একটি
নৈতিক
ও
আদর্শিক অঙ্গীকার ছিল।
প্রখ্যাত সাহাবি
উবাদা
ইবনে
সামিত
(রা.)
থেকে
বর্ণিত,
তারা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর
বাইয়াত বা
শপথ
নেন:
- একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা।
- চুরি বা ডাকাতি না করা।
- ব্যভিচার
বা কোনো প্রকার অশ্লীলতায় লিপ্ত না হওয়া।
- নিজেদের সন্তানদের
হত্যা না করা।
- কারও প্রতি মিথ্যা অপবাদ বা অপবাদ রটনা না করা।
- যেকোনো সৎ ও ভালো কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবাধ্য না হওয়া।
এপ্রেক্ষিতে ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারীদের অধিকার ও নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়টি জানা প্রয়োজন।
প্রথম শপথের তাৎপর্য ও ফলাফল
এই
শপথের
মাধ্যমে মদিনায়
ইসলামের একটি
মজবুত
নৈতিক
ভিত্তি
তৈরি
হয়।
শপথ
গ্রহণ
শেষে
মদিনার
নতুন
মুসলিমদের দ্বীন
ও
কুরআন
শিক্ষা
দেওয়ার
জন্য
রাসুলুল্লাহ (সা.)
তাঁর
প্রিয়
সাহাবি
মুসআব
ইবনে
উমায়ের
(রা.)-কে মদিনায় প্রেরণ
করেন।
মুসআব
(রা.)-এর প্রজ্ঞা এবং
একনিষ্ঠ দাওয়াতের ফলে
মদিনার
ঘরে
ঘরে
ইসলামের বাণী
পৌঁছে
যায়।
দ্বিতীয় আকাবার শপথ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ
প্রথম
শপথের
মাত্র
এক
বছর
পর, নবুয়তের ১৩তম বর্ষে মদিনায়
ইসলামের এক
অভূতপূর্ব বিপ্লব
ঘটে।
৬২২
খ্রিষ্টাব্দের হজের
মৌসুমে
মুসআব
ইবনে
উমায়ের
(রা.)-এর নেতৃত্বে মদিনার
৭৩
জন
পুরুষ
এবং
২
জন
নারী
(নাসিবা
বিনতে
কাব
এবং
আসমা
বিনতে
আমর)
মক্কায় আসেন।
মক্কার কুরাইশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে আকাবার সেই একই গিরিপথে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় আকাবার শপথ বা ‘বাইয়াতুল আকাবা আল-কুবরা’ (বৃহত্তর আকাবার শপথ) নামে সুপরিচিত।
|
আকাবার শপথের কালপঞ্জি
|
|
|
নবুয়তের ১১ বর্ষ |
৬ জন মদিনাবাসীর ইসলাম গ্রহণ
|
|
নবুয়তের ১২ বর্ষ |
১২ জনের প্রথম আকাবার শপথ নৈতিক অঙ্গীকার)
|
|
নবুয়তের ১৩ বর্ষ |
৭৫ জনের দ্বিতীয় আকাবার শপথ রাজনৈতিক ও সামরিক চুক্তি) |
দ্বিতীয় শপথের শর্তাবলী: আত্মরক্ষামূলক ও রাজনৈতিক চুক্তি
দ্বিতীয় আকাবার
শপথ
কেবল
ধর্মীয়
বা
নৈতিক
শিক্ষার মধ্যে
সীমাবদ্ধ ছিল
না।
এটি
ছিল
একটি
পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ও
সামরিক
প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই
শপথে
মদিনার
মুসলিমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রতিশ্রুতি দেন
যে:
- যেকোনো পরিস্থিতিতে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদেশ শোনা ও
আনুগত্য করা।
- স্বাচ্ছন্দ্য
ও
অভাব—উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর রাহে অর্থ ব্যয় করা।
- সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা।
- আল্লাহর পথে নিন্দুকের
নিন্দাকে ভয় না করা।
- রাসুলুল্লাহ
(সা.) মদিনায় হিজরত করার পর নিজেদের প্রাণ ও
সম্পদ দিয়ে তাঁকে রক্ষা করা।
মদিনার ১২ জন নকিব বা প্রতিনিধি নির্বাচন
শপথ
সম্পন্ন হওয়ার
পর
রাসুলুল্লাহ (সা.)
মদিনার
সার্বিক তত্ত্বাবধান ও
শৃঙ্খলা বজায়
রাখার
জন্য
১২
জন
নেতা
বা
‘নকিব’
নির্বাচন করেন।
এদের
মধ্যে
৯
জন
ছিলেন
খাজরাজ
গোত্রের এবং
৩
জন
আউস
গোত্রের। এই
দূরদর্শী পদক্ষেপ মদিনার
সমাজ
পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করেছিল।
আকাবার শপথের মূল কারণসমূহ
মদিনার
মানুষ
কেন
এত
দ্রুত
ইসলাম
গ্রহণ
করলেন
এবং
রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিজেদের নেতা
হিসেবে
বরণ
করে
নিলেন,
তার
পেছনে
বেশ
কিছু
সুনির্দিষ্ট ও
যৌক্তিক কারণ
ছিল।
১. দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা
আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যকার বুয়াসের যুদ্ধ মদিনার সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। তারা এমন একজন নিরপেক্ষ ও আসমানি দিকনির্দেশনাপ্রাপ্ত নেতার সন্ধান করছিল, যিনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিত্ব তাদের সেই আশার আলো দেখায়।
২. ইহুদিদের ভবিষ্যৎ বাণী
মদিনায়
বসবাসকারী ইহুদিরা প্রায়ই
মদিনার
পৌত্তলিকদের বলত
যে,
খুব
শীঘ্রই
একজন
শেষ
নবীর
আগমন
ঘটবে।
ইহুদিরা সেই
নবীর
সাথে
মিলে
তাদের
পরাজিত
করার
হুমকি
দিত।
মদিনার
আনসাররা যখন
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াত পেলেন,
তারা
বুঝতে
পারলেন
ইনিই
সেই
প্রতিশ্রুত নবী।
তাই
তারা
ইহুদিদের আগেই
ইসলাম
গ্রহণে
এগিয়ে
আসেন।
৩. ইসলামের সাম্য ও শান্তির বাণী
তৎকালীন আরব
সমাজে
বর্ণবাদ ও
গোত্রীয় অহংকার
প্রকট
ছিল।
ইসলামের নিখাদ
তাওহিদ
এবং
মানুষের সমতার
বাণী
মদিনার
মানুষকে গভীরভাবে আকর্ষণ
করেছিল। পবিত্র
কুরআনের অলৌকিক
বাণী
তাদের
হৃদয়কে
নরম
করে
দিয়েছিল।
ইসলামের ইতিহাসে আকাবার শপথের গুরুত্ব ও প্রভাব
ইসলামের ইতিহাসে আকাবার শপথ একটি
যুগান্তকারী মোড়
পরিবর্তনকারী ঘটনা।
এই
শপথের
প্রভাব
ও
ফলাফল
ছিল
সুদূরপ্রসারী, যা
আরবের
ধর্মীয়
ও
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চিরতরে
বদলে
দেয়।
মদিনা হিজরতের পথ সুগম হওয়া
এই শপথের প্রধান এবং সরাসরি ফলাফল ছিল হিজরত। মক্কার কাফেরদের সীমাহীন অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য মুসলমানরা একটি নিরাপদ ঘাঁটি লাভ করে। আল্লাহর নির্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের মদিনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে নিজেও মদিনায় গমন করেন।
মদিনা রাষ্ট্র গঠন ও ইসলামি খেলাফতের ভিত্তি
আকাবার
চুক্তির মাধ্যমেই মূলত
মদিনা
সনদের
ভিত্তি
স্থাপিত হয়েছিল। মদিনায়
একটি
স্বাধীন, সার্বভৌম ইসলামি
রাষ্ট্র গঠনের
প্রাথমিক আইনি
ও
সামাজিক ভিত্তি
তৈরি
করে
এই
শপথ।
এর
ফলে এটি কেবল
একটি
ধর্ম
হিসেবে
নয়,
বরং
ইসলাম
একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করার
সুযোগ
পায়।
ইসলামি
রাষ্ট্রের আইনি
কাঠামো
বুঝতে
আমাদের
"মদিনা সনদের ধারা ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এর প্রভাব" আর্টিকেলটি পড়তে
পারেন।
কুরাইশদের আধিপত্যের অবসান
মদিনার
আনসারদের এই
ঐতিহাসিক সাহসিকতা মক্কার
কুরাইশদের একচ্ছত্র আধিপত্যের ভিত
নাড়িয়ে
দেয়।
মক্কা
থেকে
সিরিয়া
যাওয়ার
বাণিজ্য পথটি
মদিনার
পাশ
দিয়ে
যাওয়ায়
কুরাইশরা অর্থনৈতিক ও
সামরিকভাবে চাপে
পড়ে
যায়।
নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক রেফারেন্স ও উৎস
ইসলামি
ইতিহাস
ও
সীরাত
শাস্ত্রের সবচেয়ে
নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে
আকাবার
শপথের
বিবরণ
পাওয়া
যায়।
এই
প্রবন্ধের তথ্যাদি মূলত
নিম্নলিখিত গ্রন্থসমূহের আলোকে
সংকলিত:
|
গ্রন্থের নাম |
লেখকের নাম |
অধ্যায়/আলোচ্য বিষয় |
|
আর-রাহীকুল মাখতূম |
আল্লামা সাফিউর রহমান মুবারকপুরী |
বাইয়াতুল আকাবা ও
হিজরতের প্রস্তুতি |
|
সহীহ বুখারী |
ইমাম
বুখারী (র.) |
কিতাবুল ঈমান
ও
কিতাবু মানাকিবিল আনসার |
|
সীরাতে ইবনে হিশাম |
ইবনে
হিশাম |
আকাবার প্রথম ও
দ্বিতীয় বাইয়াত |
সহীহ
বুখারীর ৩৯৩৯
নম্বর
হাদিস হযরত উবাদা
ইবনে
সামিত
(রা.)
থেকে
প্রথম
আকাবার
শপথের
শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত
হয়েছে,
যা
এই
ঘটনার
ঐতিহাসিক সত্যতার সবচেয়ে
বড়
প্রমাণ।
উপসংহার
পরিশেষে বলা
যায়,
আকাবার শপথ কেবল
দুটি
গোত্রের সাথে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ কোনো
চুক্তি
ছিল
না।
এটি
ছিল
বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে
ওঠা
এক
চিরন্তন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
মদিনার
আনসারদের আত্মত্যাগ, আশ্রয়
ও
বীরত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের ফলেই
ইসলাম
মক্কার
সংকীর্ণ পরিবেশ
থেকে
বের
হয়ে
বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে
পড়ার
সুযোগ
পেয়েছিল।
ইসলামের প্রচার
ও
একটি
কল্যাণকামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এই
শপথের
অবদান
মুসলিম
উম্মাহর জন্য
কেয়ামত
পর্যন্ত এক
অনুকরণীয় আদর্শ
হয়ে
থাকবে।
(FAQ) আকাবার শপথ সম্পর্কিত সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা
১. আকাবার শপথ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: মক্কার অদূরে
অবস্থিত 'আকাবা'
নামক
একটি
গিরিপথে এই
শপথ
অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি
মিনা
শহরের
কাছাকাছি অবস্থিত।
২. আকাবার শপথ কত সালে হয়েছিল?
উত্তর: প্রথম আকাবার
শপথ
৬২১
খ্রিষ্টাব্দে (নবুয়তের ১২তম
বর্ষে)
এবং
দ্বিতীয় আকাবার
শপথ
৬২২
খ্রিষ্টাব্দে (নবুয়তের ১৩তম
বর্ষে)
অনুষ্ঠিত হয়।
৩. দ্বিতীয় আকাবার শপথে কতজন নারী অংশ নিয়েছিলেন?
উত্তর: দ্বিতীয় আকাবার
শপথে
মদিনার
মোট
৭৫
জন
মুসলিমের মধ্যে
২
জন
নারী
সাহাবি
অংশ
নিয়েছিলেন। তারা
হলেন
নাসিবা
বিনতে
কাব
(উম্মে
আম্মারা) এবং
আসমা
বিনতে
আমর
(উম্মে
মানী)।

0 মন্তব্যসমূহ