Ad Code

Responsive Advertisement

মদিনার ইহুদি গোত্রসমূহ: বনু কাইনুকা, বনু নাযির ও বনু কুরাইজা | The Jewish Tribes of Medina

Jewish Tribes of Medina


ইসলামের ইতিহাসে মদিনা মুনাওয়ারা বা তদানীন্তন ইয়াসরিবের অধিবাসীদের কথা আসলেই আনসার মুহাজিরদের পাশাপাশি তিনটি প্রধান ইহুদি গোত্রের নাম অপরিহার্যভাবে চলে আসে। এই তিনটি গোত্র হলো (১) বনু কাইনুকা (২) বনু নাযির এবং (৩) বনু কুরাইজা

রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর শান্তিশৃঙ্খলা পারস্পরিক সহাবস্থানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, যা 'মদিনার সনদ' নামে পরিচিত। এই চুক্তিতে বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরাইজা গোত্রত্রয় অন্যতম স্বাক্ষরকারী পক্ষ ছিল। তবে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক কূটচাল, চুক্তিভঙ্গ এবং ষড়যন্ত্রের কারণে মুসলিমদের সাথে তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।

এই আর্টিকেলে আমরা মদিনার ০৩টি ইহুদি গোত্রের ইতিহাস, তাদের প্রভাব, চুক্তিভঙ্গের কারণ এবং তাদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক রেফারেন্সসহ বিস্তারিত আলোচনা করব।

মদিনায় ইহুদি গোত্রত্রয়ের আগমন প্রভাব

মদিনায় ইহুদিদের আগমন ঠিক কবে হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টীয় প্রথম বা দ্বিতীয় শতকে রোমানদের দ্বারা ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা হেজাজ বা আরব উপদ্বীপে আশ্রয় নিয়েছিল।

মদিনার উর্বর মাটি এবং কৌশলগত অবস্থান বাণিজ্য কৃষিকাজের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। ফলে ইহুদিরা দ্রুতই সেখানে নিজেদের অর্থনৈতিক সামাজিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

. বনু কাইনুকা

বনু কাইনুকা গোত্রটি মূলত মদিনা শহরের অভ্যন্তরে বসবাস করত। তারা কৃষিকাজের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কাজে বেশি পারদর্শী ছিল। মদিনার বিখ্যাত 'কাইনুকা বাজার' ছিল তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। সামরিক দিক থেকেও তারা বেশ শক্তিশালী বীর যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিল।

. বনু নাযির

এই গোত্রটি মদিনার শহরতলীর একটি উর্বর এলাকায় বসবাস করত। তাদের প্রধান জীবিকা ছিল খেজুরের বাগান এবং কৃষিকাজ। অর্থনৈতিকভাবে তারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং মদিনার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিল।

. বনু কুরাইজা

বনু কুরাইজাও মদিনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কৃষিপ্রধান এলাকায় বাস করত। বনু নাযিরের মতোই তারা কৃষিকাজ দুর্গ নির্মাণে পারদর্শী ছিল। প্রতিরক্ষার দিক থেকে তাদের অবস্থান ছিল মদিনার অন্যতম প্রবেশদ্বারে।

মদিনার ভৌগোলিক অবস্থান আরবের প্রাচীন বাণিজ্য পথ সম্পর্কে জানতে আমাদের "প্রাক-ইসলামী আরব" আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

মদিনার সনদ এবং ইহুদিদের সাথে চুক্তি

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর একটি বহু-ধর্মীয় বহু-জাতিভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় মদিনার মুসলিম, পৌত্তলিক এবং ইহুদি গোত্রগুলোর মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইতিহাসে একেই 'মদিনার সনদ' বলা হয়।

List of the Jewish Tribes of Medina
List of the Jewish Tribes that Signed the Constitution of Medina


সনদের মূল শর্তসমূহ

·         মুসলিম ইহুদিরা পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

·         উভয় পক্ষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে।

·         বাইরের কোনো শত্রু মদিনা আক্রমণ করলে সব পক্ষ মিলে যৌথভাবে মদিনা রক্ষা করবে।

·         কোনো পক্ষই মক্কাবাসী কুরাইশ বা অন্য কোনো শত্রুকে সাহায্য বা আশ্রয় দিতে পারবে না।

·         যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসার চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে থাকবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরাইজা মদিনা রাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক সুবিধা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করে।

বনু কাইনুকা গোত্রের চুক্তিভঙ্গ নির্বাসন

মদিনার সনদে স্বাক্ষর করলেও ইহুদি গোত্রগুলো মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ধর্মীয় উত্থানকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। বিশেষ করে ২য় হিজরিতে বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের অলৌকিক বিজয়ের পর তাদের হিংসা শত্রুতা প্রকাশ্য রূপ নেয়। কারণ ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের ফলাফল ছিল ইসলামের বিজয়ের প্রথম সিঁড়ি।

চুক্তিভঙ্গের কারণ পটভূমি

বদর যুদ্ধের পর বনু কাইনুকা গোত্র মুসলিমদের উসকানি দিতে শুরু করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কাইনুকা বাজারে গিয়ে সতর্ক করেন এবং মদিনার সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু তারা অহংকার প্রকাশ করে বলে যে, কুরাইশরা যুদ্ধ জানত না দেখে মুসলিমরা জিতেছে; তাদের সাথে যুদ্ধ হলে মুসলিমরা বুঝতে পারবে যুদ্ধ কাকে বলে।

মুসলিম নারী শ্লীলতাহানির ঘটনা

চূড়ান্ত উত্তেজনা তৈরি হয় যখন একজন মুসলিম নারী বনু কাইনুকা বাজারের এক স্বর্ণকারের দোকানে যান। সেখানে ইহুদিরা চক্রান্ত করে সেই নারীর পোশাকের এক প্রান্ত ওপরের দিকে বেঁধে দেয়, যার ফলে তিনি দাঁড়িয়ে উঠতেই শ্লীলতাহানির শিকার হন। ওই নারীর চিৎকার শুনে এক মুসলিম যুবক এগিয়ে আসেন এবং সেই ইহুদি স্বর্ণকারকে হত্যা করেন। জবাবে ইহুদিরা একত্রিত হয়ে সেই মুসলিম যুবককে শহীদ করে।

অবরোধ চূড়ান্ত পরিণতি

এই ঘটনার পর মদিনার সনদ সম্পূর্ণ লঙ্ঘিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরির শওয়াল মাসে বনু কাইনুকা গোত্রকে তাদের দুর্গে অবরুদ্ধ করেন। টানা ১৫ দিন অবরোধের পর তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

মদিনার মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয় এর জোরাজুরির কারণে রাসূল (সা.) তাদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে মদিনা থেকে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা তাদের সমস্ত অস্ত্র স্বর্ণালঙ্কার ফেলে সিরিয়ার সংলগ্ন আজরূআত অঞ্চলে চলে যায়।

বনু নাযির গোত্রের চক্রান্ত

বনু কাইনুকার নির্বাসনের পরও বাকি দুই গোত্র সতর্ক হয়নি। ৩য় হিজরিতে সংঘটিত ওহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের সাময়িক বিপর্যয়ের পর বনু নাযির গোত্র মুসলিমদের দুর্বল মনে করে মক্কার কুরাইশদের সাথে গোপনে যোগাযোগ শুরু করে।

মহানবী (সা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র

৪র্থ হিজরিতে বনু আমির গোত্রের দুই ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের দিয়ত বা রক্তপণ পরিশোধের সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে বনু নাযির পল্লীতে যান। তারা রাসূল (সা.)-কে একটি দেয়ালের পাশে বসিয়ে অত্যন্ত ভদ্র আচরণ করে।

কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা ষড়যন্ত্র করে যে, ওপর থেকে একটি বড় পাথর ফেলে রাসূল (সা.)-কে হত্যা করা হবে। আমর ইবনে জাহাশ নামক এক ইহুদি এই কাজের দায়িত্ব নেয়। ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা রাসূল (সা.)-কে এই চক্রান্তের কথা জানিয়ে দেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে মদিনায় ফিরে আসেন।

বনু নাযির গোত্রের চক্রান্তের ধারা

Ø ওহুদ যুদ্ধের পর কুরাইশদের সাথে গোপন আঁতাত।

Ø রক্তপণের আলোচনার বাহানায় রাসূল (সা.)-কে আমন্ত্রণ।

Ø ছাদ থেকে পাথর ফেলে হত্যার চেষ্টা (ওহী দ্বারা উন্মোচিত)

অবরোধ নির্বাসন

চুক্তিভঙ্গ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে রাসূল (সা.) তাদের ১০ দিনের মধ্যে মদিনা ছাড়ার নির্দেশ দেন। মুনাফিকদের আশ্বাসে তারা প্রথমে প্রতিরোধ করতে চাইলেও মুসলিমদের ১৫ দিনের অবরোধের মুখে তারা ভেঙে পড়ে।

অবশেষে হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তারা মদিনা ছাড়তে বাধ্য হয়। তারা উটের পিঠে যতটুকু মালামাল নেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে খায়বার এবং সিরিয়ার দিকে চলে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া স্থাবর সম্পত্তি অস্ত্র মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

বনু নাযিরের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে "সূরা হাশরের ঐতিহাসিক পটভূমি" নিবন্ধটি দেখুন।

বনু কুরাইজা গোত্রের চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিচার

মদিনার তিনটি ইহুদি গোত্রের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বিপজ্জনক চুক্তিভঙ্গটি করেছিল বনু কুরাইজা হিজরিতে যখন মক্কার কুরাইশ, নজদের গাতফান এবং নির্বাসিত বনু নাযির ইহুদিরা মিলে ১০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মদিনা আক্রমণ করে যা খন্দকের যুদ্ধ বা আহযাবের যুদ্ধ নামে পরিচিত, তখন মদিনা চরম সংকটে পড়ে।

খন্দকের যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা

মদিনার সুরক্ষায় মুসলিমরা হযরত সালমান ফারসী (রা.)-এর পরামর্শে পরিখা বা খন্দক খনন করেছিলেন। তবে মদিনার পেছন দিক অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব দিকটি ছিল অরক্ষিত, কারণ সেখানে সুরক্ষার দায়িত্বে ছিল বনু কুরাইজা

বনু নাযির গোত্রের নেতা হুয়াই ইবনে আখতাব বনু কুরাইজার প্রধান কাব ইবনে আসাদকে প্ররোচিত করে। সে মদিনার সংকটময় মুহূর্তে মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে কাফের জোট বাহিনীর সাথে হাত মেলায়। এর ফলে মদিনার অভ্যন্তরে থাকা মুসলিম নারী শিশুরা চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে।

বনু কুরাইজার অবরোধ আত্মসমর্পণ

আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে খন্দকের যুদ্ধে কাফের বাহিনী পরাস্ত হয়ে ফিরে যাওয়ার পর, জিবরাঈল (.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) সরাসরি বনু কুরাইজার দুর্গ ঘেরাও করেন। দীর্ঘ ২৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্মসমর্পণ করে।

সা' ইবনে মুআয (রা.)-এর ঐতিহাসিক ফায়সালা

বনু কুরাইজা গোত্র আউস গোত্রের মিত্র ছিল। তাই তারা অনুরোধ করে যেন আউস গোত্রের নেতা সা' ইবনে মুআয (রা.) তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। রাসূল (সা.) তাদের এই অনুরোধ মেনে নেন। সা' (রা.) খন্দকের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন।

তিনি তাওরাতের বিধান অনুসারে এবং তাদের চরম রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বিবেচনা করে রায় দেন যে:

·         যুদ্ধোপযোগী সকল পুরুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে;

·         নারী শিশুদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে গণ্য করা হবে;

·         তাদের সমস্ত সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রায় শুনে খুব খুশি হন। এই রায়ের মাধ্যমে মদিনা থেকে চূড়ান্তভাবে ইহুদি চক্রান্তের অবসান ঘটে।

ঐতিহাসিক পর্যালোচনা রেফারেন্স

ইসলামবিদ্বেষী বা প্রাচ্যবিদরা (Orientalists) অনেক সময় এই ইহুদি গোত্রগুলোর বিচারকে কঠোর বলে সমালোচনা করার চেষ্টা করেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন ইতিহাসের নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, মুসলিমরা তাদের প্রতি অন্যায় করেনি, বরং তারা নিজেদের কর্মফল ভোগ করেছিল।

প্রধান রেফারেন্সসমূহ

. আল-কুরআন: সূরা আল-হাশরে বনু নাযিরের বহিষ্কার এবং সূরা আল-আহযাবে বনু কুরাইজার বিচার সম্পর্কে স্পষ্ট আয়াত নাজিল হয়েছে।

. আর-রাহীকুল মাখতূম (সফিউর রহমান মুবারকপুরী): সীরাতের এই নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে তিন গোত্রের চুক্তিভঙ্গের বিবরণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উল্লেখ আছে।

. সীরাত ইবনে হিশাম: প্রাচীনতম সীরাত গ্রন্থ হিসেবে এতে মদিনার সনদের ধারা এবং ইহুদিদের অবাধ্যতার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

. তারীখুত তাবারী: ইমাম তাবারী তাঁর ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ এবং বনু কুরাইজার বিচারের বিবরণ সবিস্তারে এনেছেন।

বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরাইজার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

নিচের টেবিলটির মাধ্যমে আমরা মদিনার এই তিন ইহুদি গোত্রের সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক চিত্র একনজরে দেখতে পারি:

 

গোত্রের নাম

প্রধান পেশা

চুক্তিভঙ্গের মূল কারণ

চূড়ান্ত পরিণতি

হিজরি সাল

বনু কাইনুকা

ব্যবসা স্বর্ণালঙ্কার তৈরি

মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি অহংকার

মদিনা থেকে সিরিয়ায় নির্বাসন

হিজরি

বনু নাযির

কৃষিকাজ খেজুর বাগান

রাসূল (সা.)-কে পাথর ফেলে হত্যার চক্রান্ত

খায়বার সিরিয়ায় নির্বাসন

হিজরি

বনু কুরাইজা

কৃষি দুর্গ রক্ষা

খন্দকের যুদ্ধে কাফেরদের সাথে আঁতাত

পুরুষদের মৃত্যুদণ্ড, নারী শিশু বন্দী

হিজরি

উপসংহার

মদিনার ইতিহাসে বনু কাইনুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরাইজা গোত্রত্রয়ের কাহিনী কেবল একটি সম্প্রদায়ের উত্থান-পতনের গল্প নয়, বরং এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং চুক্তিভঙ্গের এক জ্বলন্ত শিক্ষা। মহানবী (সা.) তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ধর্মীয় হিংসা রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার লোভে মদিনা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চক্রান্তে মেতে উঠেছিল।

ইসলামী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই তিন গোত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। তাদের এই পরিণতি আরবের বুকে মুসলিমদের একচ্ছত্র রাজনৈতিক সামরিক শক্তির ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করেছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Close Menu