ইসলামের ইতিহাসে যে কয়টি স্থাপনা মুসলিম উম্মাহর ঈমান, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, তার মধ্যে মসজিদে নববী অন্যতম। আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রথম যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো এই পবিত্র মসজিদ নির্মাণ। এটি কেবল একটি ইবাদতখানা ছিল না; বরং এটি ছিল তৎকালীন ইসলামি রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু বিচারালয় এবং সামাজিক যোগাযোগের মূল ভিত্তি (The Center of Social Interaction)।
মসজিদে নববী নির্মাণ ইসলামের ইতিহাসের একটি
টার্নিং পয়েন্ট। এই
আর্টিকেলে আমরা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের সেই
ঐতিহাসিক নির্মাণকাজ, এর
পেছনের
কারণ,
স্থাপত্যশৈলী এবং
এর
ধারাবাহিক পরিবর্তন নিয়ে
গভীর
আলোচনা
করব।
মদিনায় হিজরত এবং ঐতিহাসিক পটভূমি
নবুওয়াতের ত্রয়োদশ বর্ষে
মক্কার
কাফেরদের অত্যাচার যখন
চরম
সীমায়
পৌঁছায়,
তখন
আল্লাহর নির্দেশে মহানবী
(সা.)
মদিনায়
হিজরত
করেন।
মদিনার
আনসার
সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাদরে গ্রহণ
করার
জন্য
অধীর
আগ্রহে
অপেক্ষা করছিলেন।
মদিনায়
প্রবেশের পর
প্রত্যেকেই চচ্ছিলেন রাসুল
(সা.)
যেন
তাদের
বাড়িতে
অবস্থান করেন।
কিন্তু
আল্লাহর রাসুল
(সা.)
আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর
ভরসা
করে
তাঁর
উট
'কাসওয়া'-কে ছেড়ে দিলেন।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর ৩৯৩২ (হিজরত অধ্যায়)।
উটটি
যেখানে
গিয়ে
প্রথম
বসেছিল,
সেটি
ছিল
একটি
পরিত্যক্ত জমি।
আর
সেই
জমিতেই
পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ এই
মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
মসজিদে নববী নির্মাণের স্থান নির্বাচন
কাসওয়া
নামের
উটটি
মদিনার
বনু
নাজ্জার গোত্রের একটি
খালি
জায়গায়
গিয়ে
বসে।
জায়গাটি ছিল
মূলত
খেজুর
শুকানোর চাতাল
বা
খামার।
জমির মালিকানা ও ক্রয় প্রক্রিয়া
এই
জমিটির
মালিক
ছিলেন
মদিনার
দুজন
এতিম
শিশু—সাহল এবং সুহাইল। তারা
ছিলেন
আসআদ
ইবনে
জুরারাহ (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে। রাসুল
(সা.)
জমিটি
মসজিদের জন্য
পছন্দ
করার
পর
এর
মূল্য
পরিশোধ
করতে
চাইলেন।
এতিম
শিশু
দুটি
জমিটি
উপহার
হিসেবে
দিতে
চাইলেও
আল্লাহর রাসুল
(সা.)
তা
ফ্রিতে
নিতে
অস্বীকৃতি জানান।
অবশেষে
হযরত
আবু
বকর
(রা.)-এর অর্থায়নে ১০
দিনার
মূল্যে
জমিটি
ক্রয়
করা
হয়।
প্রাথমিক জমি পরিষ্কারকরণ
জমিটি
ক্রয়ের
সময়
সেখানে
কিছু
খেজুর
গাছ,
বুনো
ঝোপঝাড়
এবং
মুশরিকদের পুরনো
কিছু
কবর
ছিল।
মসজিদে নববী নির্মাণ শুরু
করার
আগে
সাহাবিরা কবরগুলো অপসারণ
করেন
এবং
জমিটি
সমতল
করেন।
মসজিদে নববী নির্মাণের মূল কারণসমূহ
রাসুলুল্লাহ (সা.)
মদিনায়
আসার
পরপরই
কেন
একটি
মসজিদ
নির্মাণে এত
জোর
দিলেন?
এর
পেছনে
ধর্মীয়,
সামাজিক ও
রাজনৈতিক গভীর
কারণ
ছিল।
১. ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
মক্কায়
মুসলমানরা প্রকাশ্যে এবং
জামায়াতের সাথে
ইবাদত
করতে
পারতেন
না।
মদিনায়
এসে
একটি
স্বাধীন ও
উন্মুক্ত ইবাদতখানার প্রয়োজন ছিল,
যেখানে
সবাই
একসাথে
আল্লাহর সেজদা
করতে
পারেন।
২. মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সামাজিক বন্ধন
মদিনার
আনসার
এবং
মক্কা
থেকে
আসা
মুহাজিরদের মধ্যে
ভ্রাতৃত্ব বন্ধন
সুদৃঢ়
করার
জন্য
একটি
মিলনমেলার প্রয়োজন ছিল।
প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে
একত্রিত হওয়া
তাদের
পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও
মজবুত
করেছিল।
৩. রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু
ইসলামি
পরিভাষায় মসজিদ
কেবল
প্রার্থনালয় নয়।
মদিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে
এটি
ছিল
তৎকালীন ইসলামি
রাষ্ট্রের সচিবালয়। যুদ্ধ
পরিচালনা, বিদেশি
দূতদের
অভ্যর্থনা এবং
রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এখান
থেকেই
নেওয়া
হতো।
৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ
মসজিদের একটি
অংশ
(সুফফা)
ছিল
মদিনার
প্রথম
আবাসিক
বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে
সাহাবিরা কোরআন
এবং
দ্বীনের জ্ঞান
অর্জন
করতেন।
মসজিদে নববী নির্মাণশৈলী এবং প্রাথমিক কাঠামো
হিজরি
১ম
সনের
(৬২২
খ্রিষ্টাব্দ) রবিউল
আউয়াল
মাসে
এই
পবিত্র
মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু
হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)
নিজে
সাধারণ
শ্রমিকের মতো
সাহাবিদের সাথে
কাঁধে
কাঁধ
মিলিয়ে
পাথর
ও
ইট
বহন
করেছিলেন।
প্রাথমিক পরিমাপ ও দেওয়াল
শুরুতে
মসজিদের দৈর্ঘ্য ছিল
প্রায়
৭০
হাত
এবং
প্রস্থ
ছিল
৬০
হাত
(প্রায়
৩৫
মিটার
দৈর্ঘ্য ও
৩০
মিটার
প্রস্থ)। এর ক্ষেত্রফল ছিল
প্রায়
১,০৫০ বর্গমিটার। দেওয়ালগুলো তৈরি
হয়েছিল
রোদে
শুকানো
কাঁচা
ইট
এবং
পাথর
দিয়ে।
স্তম্ভ এবং ছাদ
মসজিদের স্তম্ভ
বা
পিলার
হিসেবে
ব্যবহার করা
হয়েছিল
খেজুর
গাছের
কাণ্ড।
আর
ছাদ
দেওয়া
হয়েছিল
খেজুর
পাতা
এবং
ডালপালা দিয়ে।
বৃষ্টি
হলে
ছাদ
থেকে
পানি
ও
কাদা
পড়ত,
যা
সাহাবিদের ইবাদতের একাগ্রতা আরও
বাড়িয়ে
দিত।
মেঝে এবং প্রবেশদ্বার
মসজিদে
নববীর
মেঝেতে
কোনো
কার্পেট ছিল
না,
এটি
ছিল
সাধারণ
ধূলিময়
এবং
নুড়ি
পাথরে
ঢাকা।
প্রাথমিক অবস্থায় মসজিদের তিনটি
প্রবেশদ্বার বা
দরজা
ছিল:
- বাবু
রহমত (দয়ার দরজা)
- বাবুত
জিবরাইল (জিবরাইলের দরজা)
- বাবুন্
নিসা (মহিলাদের দরজা)
কেবলা পরিবর্তন ও মসজিদের কাঠামোগত রূপান্তর
মসজিদে নববী নির্মাণ এর
সময়
প্রথম
১৬
বা
১৭
মাস
মুসলমানরা বায়তুল
মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) এর
দিকে
মুখ
করে
নামাজ
আদায়
করতেন। কেবলা পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর
জেরুজালেম এবং দক্ষিণ মক্কার অবস্থান হয়। এছাড়া মসজিদের সম্মুখভাগ পেছনে চলে যায় এবং
পেছনের অংশ সামনে আসে।
হিজরি
২য়
সনে
আল্লাহর নির্দেশে কেবলা
পরিবর্তিত হয়ে
মক্কার
কাবার
দিকে
নির্ধারিত হয়।
এর
ফলে
মসজিদের দক্ষিণ
দেওয়ালটি প্রধান
দেওয়ালে পরিণত
হয়
এবং
উত্তর
দিকে
'আসহাবে
সুফফা'র জন্য স্থান
নির্ধারণ করা
হয়।
আসহাবে সুফফা: ইসলামের প্রথম আবাসিক মাদ্রাসা
মসজিদে
নববীর
উত্তর
প্রান্তে একটি
ছায়াদাড় স্থান
তৈরি
করা
হয়েছিল,
যাকে
'সুফফা'
বলা
হতো।
- কারা
ছিলেন সুফফায়? যেসব মুহাজির সাহাবিদের
মদিনায় থাকার কোনো ঘর বা পরিবার ছিল না, তারা এখানে থাকতেন।
- জ্ঞান
অন্বেষণ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-সহ প্রখ্যাত
সাহাবিরা এই সুফফায় অবস্থান করে সরাসরি রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে হাদিস শিক্ষা করতেন।
- অর্থনৈতিক
অবস্থা: তারা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র এবং ইসলামের মেহমান। রাসুল (সা.) এবং সচ্ছল সাহাবিরা
তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন।
ইসলামের প্রথম শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আসহাবে সুফফার ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে ভিজিট করুন।
রাসুল (সা.)-এর যুগে মসজিদের প্রথম সম্প্রসারণ
মদিনায়
দিন
দিন
মুসলিম
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
পাচ্ছিল। বিশেষ
করে
খাইবার
যুদ্ধের পর
(হিজরি
৭ম
সন)
মদিনায়
মুসলমানদের সংখ্যা
অনেক
বেড়ে
যায়।
ফলে
মূল
মসজিদে
স্থান
সংকুলান হচ্ছিল
না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)
মসজিদটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি
মসজিদের চারপাশের জমি
ক্রয়ের
তাগিদ
দেন।
হযরত
উসমান
ইবনে
আফফান
(রা.)
নিজের
অর্থ
দিয়ে
পাশের
জমি
কিনে
মসজিদের জন্য
ওয়াকফ
করে
দেন।
রেফারেন্স: সুনানে নাসায়ী,
হাদিস
নম্বর
৪৬০৭
(ওয়াকফ
অধ্যায়)।
এই
সম্প্রসারণের ফলে
মসজিদের আয়তন
প্রায়
দ্বিগুণ হয়ে
১০০
× ১০০
হাত
(প্রায়
২,৫০০ বর্গমিটার) হয়।
খেলাফতের যুগে মসজিদে নববীর সংস্কার ও পরিবর্তন
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর
ইসলামের পরিধি
যখন
মদিনা
ছাড়িয়ে
পারস্য
ও
রোম
সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে
পড়ে,
তখন
মসজিদের সংস্কার অপরিহার্য হয়ে
দাঁড়ায়।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগ (১১-১৩ হিজরি)
হযরত
আবু
বকর
(রা.)-এর সংক্ষিপ্ত শাসনকালে মসজিদের মূল
কাঠামোতে কোনো
পরিবর্তন করা
হয়নি।
তিনি
কেবল
জীর্ণ
হয়ে
যাওয়া
খেজুরের খুঁটিগুলো পরিবর্তন করেছিলেন।
হযরত উমর (রা.)-এর যুগ (১৭ হিজরি)
হযরত
উমর
(রা.)-এর আমলে মদিনার
জনসংখ্যা ব্যাপক
বৃদ্ধি
পায়।
তিনি
মসজিদের উত্তর,
পশ্চিম
ও
দক্ষিণ
দিকে
সম্প্রসারণ করেন।
তবে
তিনি
রাসুল
(সা.)-এর সরলতার ঐতিহ্য
ধরে
রাখতে
হাতির
দাঁত
বা
বিলাসবহুল পাথর
ব্যবহারে নিষেধ
করেছিলেন।
হযরত উসমান (রা.)-এর যুগ (২৯ হিজরি)
হযরত
উসমান
(রা.)
মসজিদে
নববীর
নির্মাণে বড়
ধরনের
পরিবর্তন আনেন।
তিনি
খেজুরের কাণ্ডের পরিবর্তে খোদাই
করা
পাথর
এবং
চুন-সুরকির স্তম্ভ ব্যবহার করেন।
ছাদ
তৈরি
করা
হয়
সেগুন
কাঠ
দিয়ে।
তিনিই
প্রথম
মসজিদে
নববীতে
টেকসই
পাথরের
দেওয়াল
নির্মাণ করেন।
বিভিন্ন যুগে মসজিদে নববীর আয়তন পরিবর্তন
|
সময়কাল / খলিফার নাম |
হিজরি সাল |
ক্ষেত্রফল (বর্গমিটার) |
প্রধান পরিবর্তনসমূহ |
|
রাসুলুল্লাহ (সা.) |
১
হিজরি |
~১,০৫০ |
খেজুর পাতা
ও
কাঁচা ইট
দিয়ে
প্রথম নির্মাণ। |
|
খাইবার যুদ্ধের পর |
৭
হিজরি |
~২,৫০০ |
হযরত
উসমান (রা.)
কর্তৃক জমি
ক্রয়
ও
প্রথম সম্প্রসারণ। |
|
হযরত উমর (রা.) |
১৭
হিজরি |
~৩,৫৭৫ |
উত্তর ও
পশ্চিমে সম্প্রসারণ, কাঠের খুঁটি পরিবর্তন। |
|
হযরত উসমান (রা.) |
২৯
হিজরি |
~৪,০৭৫ |
পাথরের দেওয়াল এবং
সেগুন কাঠের ছাদ
ব্যবহার। |
উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে আধুনিকায়ন
ইসলামের স্বর্ণযুগে খলিফারা মসজিদে
নববীর
সৌন্দর্যবর্ধন এবং
মিনার
নির্মাণে বিশেষ
মনোযোগ
দেন।
প্রথম মিনার নির্মাণ
উমাইয়া
খলিফা
ওয়ালিদ বিন
আব্দুল
মালিকের শাসনামলে (৮৮-৯১ হিজরি) মদিনার
গভর্নর
ওমর
বিন
আব্দুল
আজিজ
মসজিদের ব্যাপক
সংস্কার করেন।
তিনি
মসজিদের চার
কোণে
চারটি
মিনার
নির্মাণ করেন।
এর
আগে
আজান
দেওয়ার
জন্য
নির্দিষ্ট কোনো
উচু
মিনার
ছিল
না।
রাসুলের (সা.) এর হুজরা মসজিদের অন্তর্ভুক্তকরণ
এই
সংস্কারের সময়ই
উম্মুল
মুমিনীনদের হুজরা
বা
ঘরগুলো,
বিশেষ
করে
হযরত
আয়েশা
(রা.)-এর হুজরা—যেখানে
রাসুল
(সা.)
এবং
প্রথম
দুই
খলিফা
সমাহিত
আছেন,
তা
মসজিদের মূল
কাঠামোর ভেতরে
নিয়ে
আসা
হয়।
রিয়াজুল জান্নাহ ও সবুজ গম্বুজের ইতিহাস
মসজিদে
নববীর
ভেতরে
এমন
কিছু
স্থান
রয়েছে
যার
ধর্মীয়
গুরুত্ব অপরিসীম।
রিয়াজুল জান্নাহ (জান্নাতের বাগান)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মিম্বার এবং
তাঁর
পবিত্র
বাসগৃহের (হুজরা)
মধ্যবর্তী স্থানটুকুকে 'রিয়াজুল জান্নাহ' বলা
হয়।
হাদিস: রাসুল (সা.)
বলেছেন,
"আমার
ঘর
এবং
মিম্বারের মধ্যবর্তী অংশটুকু জান্নাতের বাগানসমূহের একটি
বাগান।"
(সহীহ
বুখারী:
১১৯৬)
বর্তমানে এই
অংশটিকে চেনার
সুবিধার্থে সাদা-সবুজ রঙের কার্পেট দিয়ে
আলাদা
করে
রাখা
হয়েছে।
সবুজ গম্বুজ (আল-কুব্বাতুল খাদরা)
রাসুল
(সা.)-এর রওজা মোবারকের ওপর
যে
সবুজ
গম্বুজটি আমরা
দেখি,
তা
কিন্তু
প্রাথমিক যুগে
ছিল
না।
১২৭৯
খ্রিষ্টাব্দে মামলুক
সুলতান
মনসুর
কালাউন
প্রথম
এই
গম্বুজটি কাঠের
তৈরি
করেন।
পরবর্তীতে উসমানীয় (অটোমান)
সুলতান
মাহমুদ
১৮৩৫
খ্রিষ্টাব্দে এটি
সংস্কার করে
সবুজ
রং
করান,
যা
আজ
বিশ্বজুড়ে সবুজ গম্বুজ নামে
পরিচিত।
আধুনিক যুগে সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে সম্প্রসারণ
বিংশ
এবং
একবিংশ
শতাব্দীতে এসে
ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে
বড়
সম্প্রসারণ কাজ
শুরু
হয়।
বর্তমান সৌদি
রাজপরিবারের আমলে
মসজিদে
নববীকে
এক
আধুনিক
স্থাপত্যের বিস্ময়ে পরিণত করা হয়েছে। আধুনিক মসজিদে নববীর
মূল বৈশিষ্ট্য:
![]() |
| Expansion Under Saudi Government Oversight |
কিং ফাহদ সম্প্রসারণ (১৯৮৫-১৯৯২)
এই
সম্প্রসারণের ফলে
মসজিদের আয়তন
ও
ধারণক্ষমতা কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি
পায়।
মসজিদের ছাদেও
নামাজ
পড়ার
ব্যবস্থা করা
হয়,
যেখানে
একসাথে
কয়েক
লাখ
মুসল্লি নামাজ
আদায়
করতে
পারেন।
বর্তমান ধারণক্ষমতা
বর্তমানে মূল
মসজিদ,
ছাদ
এবং
এর
চারপাশের চত্বর
মিলিয়ে
প্রায়
১০
লক্ষাধিক মুসল্লি একসাথে
নামাজ
আদায়
করতে
পারেন।
জুমার
নামাজ
এবং
রমজান
ও
হজের
সময়
এই
সংখ্যা
আরও
বৃদ্ধি
পায়।
মসজিদে নববীর ধর্মীয় গুরুত্ব ও ফজিলত
ইসলামে
যে
তিনটি
মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর
করা
সওয়াবের কাজ,
মসজিদে
নববী
তার
অন্যতম। মক্কা
শরীফের
পর
এটিই
মুসলিম
জাহানের সবচেয়ে
পবিত্র
স্থান।
- নামাজের সওয়াব: মসজিদে নববীতে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে অন্য মসজিদে এক হাজার রাকাত নামাজ আদায়ের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায় (মসজিদুল হারাম ব্যতীত)। [সহীহ মুসলিম: ১৩৯৪]
- রওজা জিয়ারত: মহানবী (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করা এবং তাঁকে সরাসরি সালাম পেশ করার সৌভাগ্য মুমিন জীবনের অন্যতম বড় তামান্না।
উপসংহার
মসজিদে নববী নির্মাণ কেবল
কাদা-মাটি আর খেজুর
পাতার
একটি
সাধারণ
ঘর
তৈরি
ছিল
না;
এটি
ছিল
একটি
বৈশ্বিক বিপ্লবের সূতিকাগার। খেজুর
গাছের
খুঁটি
দিয়ে
শুরু
হওয়া
এই
মসজিদ
আজ
আধুনিক
স্থাপত্যের এক
অনন্য
নিদর্শন। রাসুলুল্লাহ (সা.)
এবং
তাঁর
নিষ্ঠাবান সাহাবিদের ত্যাগের বিনিময়ে নির্মিত এই
পবিত্র
স্থান
কিয়ামত
পর্যন্ত কোটি
কোটি
মুসলমানের হৃদয়ের
স্পন্দন হয়ে
থাকবে।



0 মন্তব্যসমূহ