মাওলানা রূমী ও শামছ তাবরিযী (রহঃ) এর কাহিনী | Jalal ad-Din Muhammad Rumi

Jalāl ad-Dīn Muhammad Rūmī and Shams al-Dīn Tabrīzī

একদিন মাওলানা রূমী (রহঃ) শাহী জাঁকজমকের সাথে লোকজন নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শামছ তাবরিযী (রহঃ) সম্মুখে আগসর হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “সাধ্য-সাধনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, অর্জনের উদ্দেশ্য কি?” মাওলানা রূমী (রহঃ) উত্তর দিলেন, “শরিয়তের বিধি-বিধান, আহকাম-আরকান সম্পর্কে পূর্ণজ্ঞান লাভ করা”। শামছ তাবরিযী (রহঃ) বললেন, “না-না, উদ্দেশ্য এই যে, যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার সান্নিধ্যে উপস্থিত হওয়া। অতঃপর হাকীম সানাঈর এই বয়াত আবৃত্তি করলেন-
এলম কেয তোরা না বিছতানাদ
জাহলে আযা এলম বেহ বুয়াদ বিছইয়ার।
অর্থাৎ “যেই এলম তোমাকে তোমা হতে ছিনায়ে নিয়ে তার ক্রোড়ে ধারণ না করে, ঐ এলম হতে অজ্ঞতা শতগুণে ভাল”। এ বয়াত শুনা মাত্র মাওলনার জীবনের মোড় ঘুরে গেল।
মাওলানা শামছ তাবরিযী (রহঃ) কর্তৃক সর্ব প্রথম যে অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হন তা হলো নিম্নরূপ- মাওলানা রূমী (রহঃ) শামছ তাবরিযীর খেদমতে উপস্থিত হননি বরং স্বয়ং মাওলানা শামছই মাওলানা রূমী (রহঃ) এর খেদমতে হাজির হয়েছিলেন। মাওলানা স্বীয় বাড়িতে অবস্থান করতেছিলেন। চার পাশে জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের ভীড়, আশেপাশে রাশি রাশি কিতাব বিরাট বিরাট স্তুপাকারে রক্ষিত। হঠাৎ শামছ তাবরিযী (রহঃ) তথায় উপস্থিত হয়ে ছালামান্তে ছাত্রদের সাথে মিশে বসে গেলেন। কিছু সময় চুপ থাকার পর কিতাবরাশির দিকে ইশারা করে জিজ্ঞেস করলেন এগুলো কি জিনিস?
মাওলানা রূমী (রহঃ) উত্তর করলেন, “এ হলো ঐ বস্তু, যা তুমি জান না”। এ কথা বলার সাথে সাথেই কিতাব সমূহে আগুন লেগে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল। এতদদর্শনে মাওলানা হতবাক হয়ে শামছকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কি ব্যাপার? শামছ উত্তর দিলেন, এ হলো ঐ ব্যাপার যা তুমি জান না।
অন্য আর একটি বর্ণনায় আছে যে, একদিন মাওলানা রূমী (রহঃ) একটি হাউজের কিনারায় বসে আছেন। সম্মুখে কতগুলো কিতাব রক্ষিত ছিল। হযরত শামছ তাবরিযী (রহঃ) বললেন, ওগুলো কি? মাওলানা উত্তরে বললেন, এ হলো বিজ্ঞান ও দর্শনে কথোপকথন। শামছ বললেন, এগুলোতে তোমার কি মতলব? অতঃপর তিনি কিতাবগুলোকে হাউজের মধ্যে নিক্ষেপ করে দিলেন। হযরত শামছ (রহঃ)-কে সম্বোধন করে মাওলানা বললেন, “ওহে দরবেশ, তুমি এমন সম্পদ বিনষ্ট করেছ যা এখন আর কোথাও পাওয়া যাবে না। এ কিতাবগুলোতে জ্ঞান বিজ্ঞানের এমন সূক্ষ্মতত্ত্ব লিপিবদ্ধ ছিল যার বিনিময় দুষ্প্রাপ্য। এ কথা শুনে হযরত শামছ তাবরিযী (রহঃ) হাউজের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে সমস্ত কিতাব উঠায়ে হাউজের কিনারায় রেখে দিলেন।
সমস্ত কিতাব পূর্বের ন্যায় সম্পূর্ণ শুকনা ছিল, পানির লেশমাত্রও তাতে ছিল না। ইহাতে মাওলানা রূমী (রহঃ) খুবই আশ্চর্য হলেন। মাওলানা শামছ তাবরিযী (রহঃ) বললেন, এ হলো বাস্তব জগতের অবস্থান সমূহের বিষয় বস্তু, তুমি তা কি বুঝবে?

একজন দোকানদান ও তোতা পাখি এবং বাদশাহ ও বাদিঁর প্রেম কাহিনী পড়ে নিন ঝটপট। 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ